একজনের নামে ১০টির বেশি সিম? ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বাড়তি সিম বাতিলের সময়সীমা
বাংলাদেশে এখন প্রায় প্রতিটি মানুষই মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। কেউ কেউ আবার একাধিক অপারেটরের সেবা নিতে গিয়ে নিজের নামে বেশ কয়েকটি সিম নিবন্ধন করেছেন। কিন্তু এবার সেই সংখ্যা নিয়ে এসেছে নতুন নিয়ম। একজনের নামে ১০টির বেশি সিম থাকলে অতিরিক্ত সিমগুলো আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে স্বেচ্ছায় বাতিল করতে হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বিটিআরসি এই সিদ্ধান্ত জানায়। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো — অপরাধ দমন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নকল বা অচিহ্নিত সিম ব্যবহারের ঝুঁকি কমানো।
কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো?
বিটিআরসি জানায়, অনেক গ্রাহকের নামে ডজনখানেক সিম নিবন্ধিত রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সিম ব্যবহারেই নেই, আবার কিছু সিম অপব্যবহারের কারণে অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বিশৃঙ্খলা দূর করতে এবং প্রত্যেক ব্যবহারকারীর ডিজিটাল পরিচয়কে স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, একাধিক সিম ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক সময় প্রতারণা, মানি লন্ডারিং কিংবা ডিজিটাল জালিয়াতির মতো অপরাধের ঘটনাও ঘটছে। তাই ব্যবহারকারীদের পরিচয় সঠিকভাবে যাচাই এবং সীমিত সিম ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের টেলিকম খাতকে আরও নিরাপদ করা লক্ষ্য বিটিআরসির।
নিজ নামে কতটি সিম আছে, জানবেন যেভাবে
অনেকেই জানেন না, তাদের নামে আসলে কতগুলো সিম নিবন্ধিত আছে। সহজেই এটি জানা সম্ভব। মোবাইল থেকে *16001# ডায়াল করুন এবং নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)-এর শেষ চারটি সংখ্যা লিখে পাঠান। সঙ্গে সঙ্গে জানতে পারবেন— আপনার নামে কোন অপারেটরে এবং কতটি সিম নিবন্ধিত আছে।
অতিরিক্ত সিম বাতিলের প্রক্রিয়া
বিটিআরসি বলেছে, প্রতিটি নাগরিক নিজের পছন্দমতো অপারেটরে সর্বোচ্চ ১০টি সিম রাখতে পারবেন। এর বেশি সিম থাকলে গ্রাহককে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে নিজ উদ্যোগে অতিরিক্ত সিমগুলো ডি-রেজিস্টার (নিবন্ধন বাতিল) করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করতে হবে।
যদি কেউ সময়মতো সিম বাতিল না করেন, তাহলে বিটিআরসি নিজ উদ্যোগে দৈবচয়নভিত্তিকভাবে (randomly) অতিরিক্ত সিমগুলোর নিবন্ধন বাতিল করে দেবে। অর্থাৎ কোন সিম সক্রিয় থাকবে আর কোনটি বন্ধ হবে— তা কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করবে।
অতিরিক্ত সিম বাতিল না করলে কী হতে পারে?
যদি গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নেন, তবে তাদের অতিরিক্ত সিম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে গুরুত্বপূর্ণ কল, ব্যাংক লেনদেনের OTP বা অন্যান্য সার্ভিস ব্যাহত হতে পারে। তাই বিটিআরসি গ্রাহকদের অনুরোধ করেছে, যত দ্রুত সম্ভব নিজের নামে থাকা অতিরিক্ত সিমগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে।
দেশে সিম ব্যবহারের বর্তমান অবস্থা
বিটিআরসির তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে মোট ১৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার সিম নিবন্ধিত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিম একাধিকবার ব্যবহৃত বা অচল অবস্থায় রয়েছে। অনেক সময় একই ব্যক্তির নামে ২০টিরও বেশি সিম পাওয়া যায়, যা সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন করে তোলে।
তাই এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিটিআরসি চায় সিম ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে। একদিকে যেমন গ্রাহকের নিরাপত্তা বাড়বে, তেমনি অপারেটরদেরও হবে সঠিক ডেটা ব্যবস্থাপনা সহজ।
শেষ কথা
অতিরিক্ত সিম ব্যবহারের দিন শেষ। এখন সময় এসেছে সচেতন হওয়ার। নিজের নামে থাকা সিমগুলো যাচাই করুন, প্রয়োজনীয়গুলো রেখে বাকিগুলো দ্রুত বাতিল করুন। এতে যেমন আপনি নিরাপদ থাকবেন, তেমনি দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তাও আরও মজবুত হবে।
0 Response to "অতিরিক্ত মোবাইল সিম বাতিলের নির্দেশ বিটিআরসির বিস্তারিত দেখুন"
Post a Comment